দারসূল কুরআন
দারসূল কুরআন
মুহাম্মদ হামিদুল ইসলাম আজাদ
اعْلَمُوا
أَنَّمَا الْحَيَاةُ الدُّنْيَا لَعِبٌ وَلَهْوٌ وَزِينَةٌ وَتَفَاخُرٌ بَيْنَكُمْ
وَتَكَاثُرٌ فِي الْأَمْوَالِ وَالْأَوْلَادِ ۖ كَمَثَلِ غَيْثٍ أَعْجَبَ
الْكُفَّارَ نَبَاتُهُ ثُمَّ يَهِيجُ فَتَرَاهُ مُصْفَرًّا ثُمَّ يَكُونُ حُطَامًا
ۖ وَفِي الْآخِرَةِ عَذَابٌ شَدِيدٌ وَمَغْفِرَةٌ مِّنَ اللَّهِ وَرِضْوَانٌ ۚ
وَمَا الْحَيَاةُ الدُّنْيَا إِلَّا مَتَاعُ الْغُرُورِ
২০. ভালভাবে জেনে রাখো দুনিয়ার এ জীবন, একটা খেলা, হাসি তামাসা, বাহ্যিক চাকচিক্য, তোমাদের পারস্পরিক গৌরব ও অহংকার এবং সন্তান সন্তুতি ও অর্থ-সম্পদে পরস্পরকে অতিক্রম করার চেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয় ৷ এর উপমা হচ্ছে, বৃষ্টি হয়ে গেল এবং তার ফলে উৎপন্ন উদ্ভিদরাজি দেখে কৃষক আনন্দে উৎফূল্ল হয়ে উঠলো ৷ তারপর সে ফসল পেকে যায় এবং তোমরা দেখতে পাও যে, তা হলদে বর্ণ ধারণ করে এবং পরে তা ভূষিতে পরিণত হয়৷ পক্ষান্তরে আখেরাত এমন স্থান যেখানে রয়েছে কঠিন আযাব, আল্লাহর ক্ষমা ও সন্তুষ্টি৷ পার্থিব জীবন প্রতারণার উপকরণ ছাড়া আর কিছুই নয় ৷
سَابِقُوا إِلَىٰ
مَغْفِرَةٍ مِّن رَّبِّكُمْ وَجَنَّةٍ عَرْضُهَا كَعَرْضِ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ
أُعِدَّتْ لِلَّذِينَ آمَنُوا بِاللَّهِ وَرُسُلِهِ ۚ ذَٰلِكَ فَضْلُ اللَّهِ
يُؤْتِيهِ مَن يَشَاءُ ۚ وَاللَّهُ ذُو الْفَضْلِ الْعَظِيمِ
২১. দৌড়াও এবং একে অপরের চেয়ে অগ্রগামী হওয়ার চেষ্টা করো, তোমার রবের মাগফিরাতের দিকে এবং সে জান্নাতের দিকে যার বিস্তৃতি আসমান ও যমীনের মত ৷ তা প্রস্তুত রাখা হয়েছে সে লোকদের জন্য যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলদের প্রতি ঈমান এনেছে ৷ এটা আল্লাহর অনুগ্রহ ৷ যাকে ইচ্ছা তিনি তা দান করেন ৷ আল্লাহ বড়ই অনুগ্রহশীল ৷
আল-কোরআন ও সুন্নাহ হতে সংকলিত শরীয়তসম্মত উপায়ে ঝাড়-ফুঁক
শরীয়ত সম্মত উপায়ে ঝাড়-ফুঁক করার শর্তাবলী
আবদুল্লাহ ইবন আব্দুর রহমান আল-জিবরীন রহ.
অনুবাদ: আবুল কাসেম মুহাম্মাদ মাসুম বিল্লাহ
১- ঝাড়-ফুঁক হতে
হবে আল্লাহর কোরআন অথবা, তাঁর নামসমূহ
অথবা তাঁর গুনাবলীসমূহ দ্বারা।
২- ঝাড়-ফুঁক হতে
হবে আরবী বা অন্য যে কোনো ভাষায়, যার অর্থ জানা যায়।
৩- এ কথায় দৃঢ়
বিশ্বাস রাখতে হবে যে, (রোগ চিকিৎসায়) ঝাড়-ফুঁকের কোনোই ক্ষমতা নাই, বরং রোগ
শিফা’র সকল ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহ তা‘আলারই।
৪- ঝাড়-ফুঁক যেন
হারাম অবস্থায় না হয় অর্থাৎ নাপাক অবস্থায় অথবা, কবর বা পায়খানায় বসে ঝাড়-ফুঁক করা
যাবে না।
সত্যবাদিতা
আল-কুরআনুল কারীম :
1 -قُلْ إِنْ كانَتْ لَكُمُ الدَّارُ الْآخِرَةُ عِنْدَ اللَّهِ
خالِصَةً مِنْ دُونِ النَّاسِ فَتَمَنَّوُا الْمَوْتَ إِنْ كُنْتُمْ صادِقِينَ .
‘তুমি বল, যদি অপর ব্যক্তিগণ অপেক্ষা বিশেষভাবে শুধু তোমাদের জন্যে আল্লাহর নিকট বাসস্থান থাকে, তবে তোমারা মৃত্যু কামনা কর, যদি তোমরা সত্যবাদী হও’ (বাক্বারাহ ২/৯৪)।
২ -وَقالُوا لَنْ يَدْخُلَ الْجَنَّةَ إِلَّا مَنْ كانَ هُوداً أَوْ
نَصارى تِلْكَ أَمانِيُّهُمْ قُلْ هاتُوا بُرْهانَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ صادِقِينَ .
‘এবং তারা বলে, যারা ইহুদী ও খ্রীষ্টান তারা ছাড়া আর কেউই জান্নাতে প্রবেশ করবে না, এটাই তাদের বাসনা। তুমি বল, যদি তোমরা সত্যবাদী হও, তবে তোমাদের প্রমাণ উপস্থিত কর’ (বাক্বারাহ ২/১১১)।
আল-কুরআনে ঈমান ও ঈমানদার প্রসঙ্গ
মুহাম্মদ হামিদুল ইসলাম আজাদ

আল্লাহর প্রতি ঈমানের মর্ম ও হাকীকত
খাঁটি ঈমান-
প্রাণের প্রাণ, সুখের
প্রান্তর ..........................................................
আল্লাহর প্রতি
ঈমান ছাড়া আত্মার
প্রশান্তি অর্জন অসম্ভব।
আর ঈমানহীন আত্মা
সদাসন্ত্রস্ত, হীন ও দূর্বল থাকে,
সে আত্মায় থাকেনা
কোন স্থিরতা ও প্রশান্তি। আল্লাহর
প্রতি ঈমান হলো নাজাত ও মুক্তির মূলমন্ত্র। 'আল্লাহর প্রতি ঈমান'
এর অর্থ হলো,
এমর্মে দৃঢ় বিশ্বাস
করা যে,- আল্লাহই
সবকিছুর প্রতিপালক, মালিক
ও স্রষ্টা এবং সালাত, সিয়াম,
দু'আ, আশা,
ভয়, বিনয় ও নম্রতাসহ অপরাপর
সকল ইবাদতের একক হকদার কেবল
তিনিই এবং তিনিই
পূর্ণতার সব গুন-বৈশিষ্ট্যে পরিপূর্ণ ও যাবতীয় ত্রুটি
ও অপূর্ণতা হতে পবিত্র।
কিয়ামতের দিন শাফায়াত লাভের জন্য কতিপয় আমল
১) একনিষ্ঠ ভাবে আল্লাহর ইবাদত করা ও তাওহীদ বাস্তবায়ন করা:
আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
« أَسْعَدُ النَّاسِ بِشَفَاعَتِى يَوْمَ
الْقِيَامَةِ مَنْ قَالَ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ ، خَالِصًا مِنْ
قَلْبِهِ أَوْ نَفْسِهِ »
“কিয়ামতের দিন আমার শাফায়াত লাভে সেই
ব্যক্তি সৌভাগ্য মণ্ডিত হবে, যে আন্তরিকভাবে বলবে: `লাইলাহা ইল্লাল্লাহ’
তথা আল্লাহ ছাড়া সত্য কোন উপাস্য নেই।” (সহীহ বুখারী, অনুচ্ছেদ,হাদীসের
প্রতি আগ্রহ, হাদীস নং ৯৯,শামেলা)
২) কুরআন পাঠ করা: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন:
اقْرَءُوا الْقُرْآنَ فَإِنَّهُ يَأْتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ شَفِيعًا لِأَصْحَابِهِ
“তোমরা কুরআন পাঠ কর। কেননা,কুরআন কিয়ামতের দিন তার পাঠকদের জন্য সুপারিশ কারী হবে।”(সহীহ মুসলিম)।
হাদীস সংকলনের ইতিহাস
মুহাম্মদ হামিদুল ইসলাম আজাদ
হাদীস শাস্ত্রের সমস্ত প্রয়োজনীয় ও
গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা এই সংক্ষিপ্ত পরিসের উপস্থাপন করা সম্ভব নয়। এজন্য
স্বতন্ত্র পুস্তক রচনার প্রয়োজন। এনে হাদীসের সংগ্রহ ও সংকলনের একটি
সংক্ষিপ্ত ইতিহাস তুলে ধরা হচ্ছে। এ থেকে অনুমান করা যাবে যে, রাসূলুল্লাহ
(সা) এর হাদীসের এই অমূল্য সম্পদ এই তের শত বছর কোন কোন পর্যায়ে অতিক্রম
করে আমাদের কাছে পৌঁছেছে। এ থেকে আরও জানা যাবে, কোন মহা ব্যক্তিগণ হিকমাত ও
হেদায়াতের এই উৎসকে ভবিষ্যৎ বংশধরদের নিকট সংরক্ষিত আকারে পৌঁছে দেয়ার
জন্য নিজেদের জীবন ওয়াকফ করে দিয়েছিলেন এবং প্রয়োজনবোধে এ কাজে জীবন বাজি
রাখতেও পশ্চাৎপদ হননি।
তিনটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ (সা ) এর হাদীসসমূহ আমাদের নিকট পৌঁছেছে।
(১) লিখিত আকারে, (২) স্মৃতিতে ধরে রাখার মাধ্যমে, (৩) পঠন পাঠনের মাধ্যমে।
হাদীস সংগ্রহ, বিন্যাস ও পুস্তককারে সংকলনের সময়টাকে চার যুগে বিভক্ত করা যায়।
Subscribe to:
Posts (Atom)




