Showing posts with label প্রবন্ধ. Show all posts
Showing posts with label প্রবন্ধ. Show all posts

যেভাবে ব্র্যাডলি ফিলিপস থেকে আবু আমিনাহ বিলাল

ড. আবু আমিনাহ বিলাল ফিলিপস। বর্তমান সময়ে পিস টিভির নিয়মিত বক্ত। তিনি একাধারে শিক্ষক, বক্তা ও লেখক। ১৯৪৬ সালের ৬ জানুয়ারি জ্যামাইকায় এক খ্রিস্টান পরিবারে তারজন্ম। বড় হন কানাডায়। জন্মসূত্রে নাম ছিল ডেনিস ব্র্যাডলি ফিলিপস। ১৯৯৪ সাল থেকে তিনি আরব আমিরাতে বাস করছিলেন। সেখানে থেকে তিনি অধ্যাপনা, প্রকাশনা, খুতবা ও বক্তৃতার মাধ্যমে ইসলামের শিক্ষাকে প্রচার করে আসছিলেন।
তবে তার স্পষ্টবাদিতার কারণে তাকে আরব আমিরাত ত্যাগ করতে হয়। বর্তমানে তিনি কাতারে বসবাসরত।
ফিলিপস ষাটের দশকের শেষ দিকে ভ্যানকুভারে সাইমন ফ্রেসার ইউনির্ভাসিটিতে পড়া অবস্থায় সেখানকার বামপন্থী ছাত্র আন্দোলনে যোগদান করেন। ধীরে ধীরে কম্যুনিজমের প্রতি আগ্রহ জন্মায় এবং কম্যুনিস্ট আদর্শ গ্রহণ করেন। তিনি এক বছর স্যান ফ্রান্সিস্কোতে কম্যুন্সিট পার্টির সাথে কাজ করার পর এই দলের কর্মকান্ডের আসল রূপ দেখতে পেয়ে ফের কানাডায় ফিরে আসেন।

সত্যবাদিতা



আল-কুরআনুল কারীম : 

1 -قُلْ إِنْ كانَتْ لَكُمُ الدَّارُ الْآخِرَةُ عِنْدَ اللَّهِ خالِصَةً مِنْ دُونِ النَّاسِ فَتَمَنَّوُا الْمَوْتَ إِنْ كُنْتُمْ صادِقِينَ .
‘তুমি বল, যদি অপর ব্যক্তিগণ অপেক্ষা বিশেষভাবে শুধু তোমাদের জন্যে আল্লাহর নিকট বাসস্থান থাকে, তবে তোমারা মৃত্যু কামনা কর, যদি তোমরা সত্যবাদী হও’ (বাক্বারাহ ২/৯৪)।
২ -وَقالُوا لَنْ يَدْخُلَ الْجَنَّةَ إِلَّا مَنْ كانَ هُوداً أَوْ نَصارى تِلْكَ أَمانِيُّهُمْ قُلْ هاتُوا بُرْهانَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ صادِقِينَ .
‘এবং তারা বলে, যারা ইহুদী ও খ্রীষ্টান তারা ছাড়া আর কেউই জান্নাতে প্রবেশ করবে না, এটাই তাদের বাসনা। তুমি বল, যদি তোমরা সত্যবাদী হও, তবে তোমাদের প্রমাণ উপস্থিত কর’ (বাক্বারাহ ২/১১১)।

কিয়ামতের দিন শাফায়াত লাভের জন্য কতিপয় আমল


১) একনিষ্ঠ ভাবে আল্লাহর ইবাদত করা ও তাওহীদ বাস্তবায়ন করা:
আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
« أَسْعَدُ النَّاسِ بِشَفَاعَتِى يَوْمَ الْقِيَامَةِ مَنْ قَالَ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ ، خَالِصًا مِنْ قَلْبِهِ أَوْ نَفْسِهِ »
“কিয়ামতের দিন আমার শাফায়াত লাভে সেই ব্যক্তি সৌভাগ্য মণ্ডিত হবে, যে আন্তরিকভাবে বলবে: `লাইলাহা ইল্লাল্লাহ’ তথা আল্লাহ ছাড়া সত্য কোন উপাস্য নেই।” (সহীহ বুখারী, অনুচ্ছেদ,হাদীসের প্রতি আগ্রহ, হাদীস নং ৯৯,শামেলা)
২) কুরআন পাঠ করা: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন:
اقْرَءُوا الْقُرْآنَ فَإِنَّهُ يَأْتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ شَفِيعًا لِأَصْحَابِهِ
“তোমরা কুরআন পাঠ কর। কেননা,কুরআন কিয়ামতের দিন তার পাঠকদের জন্য সুপারিশ কারী হবে।”(সহীহ মুসলিম)।

রাসূল (সা.)-এর শিক্ষানীতি

 
লেখকঃ ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম

আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে প্রথম বাণীটিই ছিল-‘‘ইকরা বিইসমি রাবিবকাল্লাযি খালাক। ‘‘পড় তোমার রবের নামে, যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন, পড় দিয়েই শুরু হয়েছে সর্বকালের সেরা মানুষ আমাদের প্রিয় নবী মানবতার বন্ধু মুহাম্মদ (সা.) এর মিশনের যাত্রা। আল্লাহ তায়ালা আদম থেকে শুরু করে সকল নবী এবং রাসূলদের শিক্ষার সাথে সম্পৃক্ত করেই তাদের পরিচয় তুলে ধরেছেন। আল্লাহ বলেন : ‘হে নবী! আপনাকে আমি এমন সব জ্ঞান শিক্ষা দিয়েছি যা আপনিও জানতেন না এবং আপনার পূর্বপুরুষও জানতো না।’ (৬:৯২) আল্লাহ প্রদত্ত জ্ঞানদক্ষতায় রাসূল (সা.) এতই পারদর্শিতা অর্জন করেছিলেন যে, শিক্ষা সম্প্রসারণে বিশ্বমানবতার মহান শিক্ষকরূপে তার আবির্ভাব হয়েছিল। সেজন্য রাসূল (সা.) নিজেও এ পৃথিবীতে রাষ্ট্র প্রধান, সেনাপতি কোন নামেই নিজের পরিচয় তুলে ধরেননি। বরং তিনি নিজিকে শিক্ষক হিসেবে পরিচয় দিতে এভাবে গর্ববোধ করেছেন। রাসূল (সা.) বলেন : ‘বুয়েস্ত্ত মোয়াল্লেমান’ ‘আমি মানবতার জন্য শিক্ষকরূপে প্রেরিত হয়েছি।’ আল্লাহ্পাক রাসূল করীম (সা.)-এর পরিচয় দেন এভাবে : ‘‘তিনি (আল্লাহ্) যিনি নিরক্ষর লোকদের মধ্য হতে তাদেরই একজনকে নবী হিসেবে উন্নীত করেছেন যিনি নবী-(সা.) তাদের কাছে আবৃত্তি বা পাঠ করেন তার (আল্লাহ) নিদর্শনসমূহ, তাদের পুত-পবিত্র করেন এবং শিক্ষা দেন কিতাব ও জ্ঞান; যদিও তারা পূর্বে মিথ্যা বিশ্বাসের অনুসারী ছিল।’’ [৬২:২]

হযরত মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন উম্মী। মানব রচিত কিতাব বা গ্রন্থজ্ঞান তিনি আহরণ করেননি। মানব রচিত গ্রন্থের শিক্ষা অর্জন না করার ফলে তিনি কোন লেখক বা গ্রন্থকারের মতবাদ দ্বারা পক্ষপাতদুষ্ট হওয়া থেকে ছিলেন পাক ও পবিত্র। কারণ গোটা বিশ্বের তথা বিশ্বমানবজাতির যিনি শিক্ষক, তিনি কি করে কোন মানুষ বিশেষের নিকট শিক্ষা গ্রহণ করতে পারেন? তাহলে বিশ্বকে সার্বজনীন শিক্ষা দেবে কে? আর এ কারণেই আল্লাহ পাক তাঁর প্রিয় রাসূল (সা.)-এর শিক্ষার ভার নিজেই গ্রহণ করেছেন। রাসূল (সা.) শিক্ষকসুলভ আচরণের মাধ্যমে আরবদের মাঝে লুক্কায়িত সুপ্ত প্রতিভাকে বিকশিত করে জ্ঞান-বিজ্ঞানের আলোয় আলোকিত করার কর্মসূচিতে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছিলেন । শুধু তাই নয় তিনি মানবকুলের শ্রেষ্ঠ সম্পদ হিসেবে জ্ঞান কেই আখ্যায়িত করলেন। আল্লাহ্ বলেন : ‘‘কুল, রাববী জ্বিদ্নী ইলমা’’, বল, হে রব আমার, আমার জ্ঞান বৃদ্ধি কর।’’

শায়খ আলবানী (রহ:)-এর তাৎপর্যপূর্ণ কিছু মন্তব্য


১. العلم إن طلبته كثير والعمر عن تحصيله قصير فقدمِ الأهم منه فالأهم ‘জ্ঞানার্জনের বিষয়বস্ত্ত অসীম। কিন্তু মানুষের বয়স সসীম। তাই জ্ঞানার্জনের জন্য সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকেই অগ্রাধিকার দাও’।

২. الحق ثقيل فلا نثقله بأسلبونا ‘হক স্বভাবতই ভারী। সুতরাং আমরা আমাদের পদ্ধতি দ্বারা (দাওয়াতী ময়দানে কঠোরতা অবলম্বন করে) তাকে আরো ভারী করতে পারি না’।

৩. خير الأمور الوسط، وحب التناهي غلط ‘সর্বাধিক কল্যাণকর হ’ল মধ্যপন্থা অবলম্বন। চরমপন্থার প্রতি আকর্ষণটা ভূল।

৪. العلم لا يقبل الجمود ‘জ্ঞান কখনও স্থবিরতাকে গ্রহণ করে না’ (কেননা তা গতিশীল)।

৫.طالب الحق يكفيه دليل واحد، و صاحب الهوى لا يكفيه ألف دليل، الجاهل يُعلّم، وصاحب الهوى ليس لنا عليه سبيل . ‘সত্যাসন্ধানীর জন্য একটি দলীলই যথেষ্ট। আর প্রবৃত্তিপূজারীর জন্য হাযার দলীলও কাজে আসে না। অজ্ঞ ব্যক্তিকে শিক্ষাদান করা যায়। কিন্তু প্রবৃত্তিপূজারীর জন্য আমাদের কিছু করার নেই’।

আমরা কেন লিখব ?

এক. মহল্লায় এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন কক্সবাজারের। হঠাৎ তিনি বিনা নোটিশে এলাকা ছাড়লেন। তার ব্যথায় কাতর হলাম। ফোনে যোগাযোগের চেষ্টায় নাকাম হয়ে পাথরও হলাম। দু’ বছর পর সেদিনঅকস্মাৎ অচেনা নাম্বার থেকে ফোন এলো। সালামের পর সৌম্যকান্ত মাহমুদ ভাইয়ের কণ্ঠ চিনতে খুব বেশি কষ্ট হলো না। তারপর অনেক অনুযোগ-অভিযোগের পর এলেন মূল কথায়। তিনি নাকি ঢাকা থেকে প্রকাশিত একটি মাসিক পত্রিকায় আমার লেখা পড়ে জুমার খুতবা দেন। অখ্যাত এই পত্রিকার প্রতি তার মুগ্ধতার শেষ নেই। কেবল আমার লেখা পড়তে বহু কষ্টেঢাকার এ ম্যাগাজিন এত দূরের মফস্বলে সংগ্রহ করেন। দৈনিক আমার দেশে আমার যত লেখা ছাপা হয়েছে তার সবই তিনি সযত্নে সংরক্ষণ করছেন। কচিত সমকালে লেখা প্রকাশ হলে তাও কেবল আমার জন্যই কেনেন। 

ইলমে দ্বীন অর্জনের পথ ও পদ্ধতি

সমস্ত প্রশংসা সৃষ্টিকুলের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি ও তাঁর পরিবার পরিজন ও সঙ্গিসাথীদের প্রতি। হে আল্লাহ! আপনি যাদেরকে হিদায়াত দিয়েছেন আমাদেরকে তাদের অর্ন্তভুক্ত করে নিন। আপনি যাদেরকে নিরাপত্তা প্রদান করেছেন আমাদেরকে তাদের দলভুক্ত করুন। যাদেরকে আপনার বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেছেন আমাদেরকে তাদের তালিকাভুক্ত করে নিন। হে আল্লাহ! আমাদের অন্তরগুলোকে পরিশুদ্ধ করে দিন। আমাদের আমলসমূহকে উত্তম করে দিন। আমাদেরকে সঠিক কথা বলার তাওফিক দিন। আপনি যা পছন্দ করেন ও ভালবাসেন তা আমাদেরকে পালন করার তাওফিক দিন। আমাদেরকে আপনার নবীর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসারী বানিয়ে দিন।

Introduction to Islam


Introduction to Islam
Islam is a Semitic religion, which has over one billion adherents all over the world. Islam means "submission to the will of God". Muslims accept the Qur’an, as the word of God revealed to His last and final prophet, Muhammad (peace be upon him). Islam states that Allah sent messengers and prophets throughout the ages with the message of Unity of God and accountability in the Hereafter. Islam thus makes it an article of faith to believe in all the earlier prophets, starting with Adam, and continuing with Noah, Abraham, Ishmael, Isaac, Jacob, Moses, David, John the Baptist and Jesus amongst many others (may peace be on them all).

মাতৃভাষায় ইসলাম চর্চার গুরুত্ব

মাতৃভাষায় ইসলাম চর্চার গুরুত্ব


মুফতি এনায়েতুল্লাহ

পৃথিবীতে মানবজাতির আগমনের সঙ্গে সঙ্গে ভাষার উৎপত্তি হয়েছে। প্রথম মানব ও নবী হজরত আদম আ. এবং হজরত হাওয়া (আ.) নিজেদের মনের কথা প্রকাশের জন্য বেহেশত থেকে আরবি ভাষা শিখে এসেছিলেন। আল্লাহতায়ালা তাদের সবকিছুর নাম শিক্ষা দিয়েই তবে দুনিয়াতে পাঠান। এ প্রসঙ্গে কোরআনে কারিমে ইরশাদ হচ্ছে, ‘আর তিনি (আল্লাহ) আদমকে যাবতীয় নাম শিক্ষা দিয়েছেন।’ -সূরা আল বাকারা : ৩১

ভাষা ও বর্ণের বৈচিত্র্য আল্লাহর কুদরত

মাওলানা আবদুর রশিদ

ভাষা ও বর্ণের বৈচিত্র্য আল্লাহর কুদরত
আল্লাহ মানব জাতিকে আশরাফুল মাখলুকাত বা সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহতায়ালার দরবারে বান্দা ইহজগৎ ও আখেরাতের মঙ্গলের জন্য যে প্রার্থনা করবে তা হওয়া উচিত তার মাতৃভাষায়। কারণ মাতৃভাষায় মানুষ যে আবেগ অনুভব করে তা অন্য কোনো ভাষায় সম্ভব নয়। মানুষকে আল্লাহতায়ালা তার মনের ভাব প্রকাশের জন্য ভাষা শিক্ষা দিয়েছেন। 

ইসলামে বর্ণবাদের কোনো স্থান নেই !

ইসলামে বর্ণবাদের কোনো স্থান নেই !

মাওলানা মিরাজ রহমান

ইসলামে বর্ণবাদের কোনো স্থান নেই!



কোনো জনগোষ্ঠীর প্রতি গাত্রবর্ণের কারণে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে বৈষম্যমূলক আচরণের নীতিকেই বর্ণবাদ বলে। হাল জমানায় শুধু গাত্রবর্ণের মধ্যেই বর্ণবাদ সীমাবদ্ধ নয়; বরং শ্রেণী, জাতি, দেশ ও ধর্ম বিশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতেও এমনটি পরিলক্ষিত হয়। বর্ণবাদ সমাজ শোষণের এক অন্যতম হাতিয়ার। ইসলামে বর্ণবাদের কোনো স্থান নেই।

গরীব ও দুর্বল শ্রেণী : সমাজে অবনত মর্যাদায় উন্নত

গরীব ও দুর্বল শ্রেণী : সমাজে অবনত মর্যাদায় উন্নত

ড. মুহাম্মাদ সাখাওয়াত হোসাইন
ভূমিকা :
পার্থিব দৃষ্টিকোণে সহায়-সম্পদ মর্যাদার কারণ হ’লেও আখেরাতের বিচারে তা মর্যাদার বিষয় নয়। জান্নাত পিয়াসী মুমিন তাই দুনিয়াপূজারী হ’তে পারে না। পার্থিব মোহে সে মোহাচ্ছন্ন হয় না। কেননা মহান আল্লাহ মানুষকে দুনিয়ার প্রতারণা থেকে বেঁচে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ বলেন,

 يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّ وَعْدَ اللهِ حَقٌّ فَلَا تَغُرَّنَّكُمُ الْحَيَاةُ الدُّنْيَا وَلاَ يَغُرَّنَّكُمْ بِاللهِ الْغَرُوْرُ ‘

হে মানব জাতি! নিশ্চয়ই আল্লাহর ওয়াদা সত্য। অতএব পার্থিব জীবন যেন তোমাদেরকে ধোকায় না ফেলে। আর সেই প্রতারক (শয়তান) যেন তোমাদেরকে আল্লাহ সম্পর্কে প্রতারিত না করে’ (ফাতির ৩৫/৫)।

মুসলিম ব্রাদারহুডের আবেদন : বিশ্বশক্তিগুলোর দায়িত্ব

মুসলিম ব্রাদারহুডের আবেদন : বিশ্বশক্তিগুলোর দায়িত্ব

শাহ্ আব্দুল হান্নান

মিসরের সবচেয়ে শক্তিশালী দল মুসলিম ব্রাদারহুড গত ১০ ফেব্রুয়ারি এক বিবৃতির মাধ্যমে বিশ্বশক্তিগুলোকে মিসরের পতনশীল সামরিক শাসকদের সমর্থন না করার আবেদন জানিয়েছে। 
বিবৃতিতে সব আরব দেশকে মিসরের সামরিক সরকার (coup regime) সম্পর্কে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে অনুরোধ করা হয়েছে। বিভিন্ন অডিও রেকর্ড থেকে দেখা যায়, সামরিক শাসকেরা এতই জঘন্য যে, তারা প্রকাশ্যে শাসকদের তোষামোদ করে এবং গোপনে তাদের নিন্দাবাদ ও অপমান করে।
ব্রাদারহুড তাদের বিবৃতিতে যেসব দেশ ক্যু সরকারকে আর্থিক সাহায্য দিয়েছে, তাদের ওই অর্থ কোথায় ব্যয় হয়েছে তা কি জনস্বার্থে ব্যয় হয়েছে, নাকি সামরিক শাসকদের গোপন হিসাবে পাচার হয়ে গেছে, তা দেখার জন্য অনুরোধ করেছে।
মিসরীয় পার্লামেন্ট, যা এখন ইস্তাম্বুল থেকে কাজ করছে, সব রাষ্ট্রকে ক্যু সরকারের সাথে সম্পর্ক না রাখার যে অনুরোধ করেছে, ব্রাদারহুড তা সমর্থন করেছে। পার্লামেন্ট বলেছে, ক্যু সরকারের সব কাজ মিথ্যার ওপর দাঁড়িয়ে আছে; ক্যু সরকারের সাথে করা কোনো চুক্তির কোনো বৈধতা থাকবে না।

ইসলাম ও মুক্তচিন্তার অধিকার

ইসলাম ও মুক্তচিন্তার অধিকার

এবনে গোলাম সামাদ
ইসলাম ধর্মে মুক্তচিন্তার অধিকার দেয়া হয়েছে। আল কুরআনে বলা হয়েছে, ধর্মের নামে কোনো জবরদস্তি নেই (সূরা-২: ২৫৬)। একই সূরায় আরো বলা হয়েছে, যারা তোমার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে কিন্তু যুদ্ধের সীমা ছাড়াবে না। কেননা আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারীকে পছন্দ করেন না (সূরা- ২: ১৯০)। সে সূরায় বলা হয়েছে, মুসলমানদের হতে হবে মধ্যপন্থী (সূরা- ২: ১৪৩)। এ বিষয়ে ইসলামি ধ্যানধারণার সাদৃশ্য থাকতে দেখা যায় প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টটলের (৩৮৪-৩২২ খ্রিষ্ট পূর্বাব্দ) চিন্তাধারার। আল কুরআনে ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করতে নিষেধ করা হয়েছে (সূরা-৫: ৮০)। বলা হয়েছে, মানুষকে যুক্তির মাধ্যমে ধর্মের কথা বোঝাবে (সূরা-১৬: ১২৫)। এসব থেকে বোঝা যায় যে, ইসলাম একটি যুক্তিবাদী ধর্ম। এতে মানুষের মুক্তচিন্তার অধিকার আছে। বিখ্যাত মুসলিম দার্শনিক ইমাম আল গাজ্জালি বলেছেন কুরআনের সূরা নূরের ৩৫ নম্বর আয়াতের হতে পরে ৭০ হাজার রকম ব্যাখ্যা।

জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, ইসলাম ও বিশ্বশান্তি

জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, ইসলাম ও বিশ্বশান্তি

জি. মুনীর

দ্বন্দ্ব-সঙ্ঘাত ও বিশ্বশান্তি ইত্যাদি প্রসঙ্গ নিয়ে মুসলমান ও অমুসলমান অনেকেই কথা বলেছেন, বই লিখেছেন ইসলামি পরিপ্রেক্ষিতকে সামনে রেখে। বিষয়টি অবশ্যই কোনো অ্যাকাডেমিক বিষয় নয়। তবে বিশ্বে বিদ্যমান নানা দ্বন্দ্ব-সঙ্ঘাত বিষয়টির প্রায়োগিক প্রভাবের সংশ্লিষ্টতার কারণে এর আলোচনা পরিব্যাপক। কারণ, বিশ্বের নানা অংশে চলমান সন্ত্রাসে ক্ষতবিক্ষত আমাদের এই ধরিত্রী। মানবিকতা বিপর্যস্ত। মানুষের শান্তি বিদূরিত। মানুষের বিরুদ্ধে মানুষের অমানবিক আচরণ ও মানবসৃষ্ট দুর্ভোগে গোটা মানবসভ্যতার জন্য রচনা করছে নানা কলঙ্ক।

মহাত্মা লোকমান এবং তার হিকমত

মহাত্মা লোকমান এবং তার হিকমত
কাজী সাঈদ
হজরত আবু হুরায়রা রা: থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সা: বলেন, যখন জিহাদলব্ধ সম্পদকে ব্যক্তিগত সম্পদে পরিণত করা হবে, যখন গচ্ছিত বস্তুকে লুটের মাল গণ্য করা হবে, যাকাতকে জরিমানার মতো কঠিন মনে করা হবে, যখন পার্থিব সম্পদ লাভের উদ্দেশ্যে ধর্মীয় জ্ঞান শিক্ষা করা হবে, যখন মানুষ স্ত্রীর আনুগত্য ও মায়ের অবাধ্যতা শুরু করবে, যখন বন্ধুকে কাছে টেনে নেবে ও বাবাকে দূরে সরিয়ে রাখবে, যখন মসজিদগুলোয় হট্টগোল হবে, যখন পাপাচারী ও কুকর্মী ব্যক্তি গোত্রের নেতা হবে, যখন নীচতম ব্যক্তি তার সম্প্রদায়ের প্রধান হবে, যখন দুষ্ট লোকেদের সম্মান করা হবে তাদের অনিষ্টের ভয়ে, যখন গায়িকা নারী ও বাদ্যযন্ত্রের ব্যাপক প্রচলন হবে, যখন মদ্যপান শুরু হবে, যখন মুসলিম সম্প্রদায়ের পরবর্তী লোকেরা পূর্ববর্তীদেরকে অভিসম্পাত করবে, তখন তোমরা প্রতীক্ষা কর একটি লাল বর্ণযুক্ত বায়ুর, ভূমিকম্পের, ভূমি ধসের, আকার-আকৃতি বিকৃত হয়ে যাওয়ার এবং কিয়ামতের এমন নিদর্শনগুলোর, যেগুলো একের পর এক প্রকাশমান হতে থকাবে যেমন কোনো মালার সুতা ছিঁড়ে গেলে দানাগুলো একের পর এক খসে পড়তে থাকে (তাফসিরে মাআরেফুল কুরআন/সপ্তম খণ্ড/ সূরা লোকমান অধ্যায়)।

সাফল্য অর্জনের অন্যতম চাবিকাঠি ধৈর্য

সাফল্য অর্জনের অন্যতম চাবিকাঠি ধৈর্য

Crearসাফল্যের চূড়ায় উত্তীর্ণ হতে মানুষ নানা ধরনের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়। অনেক কষ্টে, ঘামে শ্রমে পরিশ্রমে সেই সাফল্যকে নিজের করে নেয়। নিজের অর্জিত সাফল্যের পথপরিক্রমা পর্যালোচনা করলে দেখা যায় তাতে ধৈর্যের রয়েছে বিশাল অবদান। কাজের ক্ষেত্রে কেউ যদি ধৈর্যশীল হয় তাহলে তার সফলতা অর্জনের সম্ভাবনা থাকে শতভাগ।

সন্তানকে পর্নোগ্রাফি থেকে দূরে রাখবেন যেভাবে

সন্তানকে পর্নোগ্রাফি থেকে দূরে রাখবেন যেভাবে

সন্তানকে পর্নোগ্রাফি থেকে দূরে রাখবেন যেভাবে
উঠতিবয়সী বা টিন-এজারদের সঙ্গে পর্নোগ্রাফি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করলে অশ্লীল ছবির প্রতি তাদের আসক্তি এড়ানো সম্ভব, এমনটাই জানা গিয়েছে সাম্প্রতিক এক গবেষণায়। পাশাপাশি উঠতিবয়সী সন্তানের সঙ্গে তার বাবা - মা যদি পর্ন ছবি নিয়ে আলোচনা করেন, তাহলে সন্তান মানসিকভাবেও দৃঢ় হয় । তাই শিশুদের সামনে অশ্লীল ছবির নেতিবাচক দিকগুলি তুলে ধরা উচিত।

আল্লাহর নিদর্শন

প্রবন্ধটি পড়া হলে, শেয়ার করতে ভুলবেন না

রহমান রহীম আল্লাহ্‌ তায়ালার নামে -

এ পৃথিবীর সকল বস্ত্তরই একটা নাম ও নিদর্শন রয়েছে। উক্ত নাম ও নিদর্শনের মধ্যে নিবিড় সম্পর্কও রয়েছে, যা তার পরিচয় বহন করে। প্রত্যেকের নিদর্শন দ্বারাই একে অপরকে চিনে, জানে ও বিশ্বাস করে। মানুষ ছাড়া যত প্রকারের চেনা-জানা প্রাণী বা গৃহপালিত ও বন্য পশু, হিংস্র-শান্ত জীব-জানোয়ার, কীট-পতঙ্গ রয়েছে, তাদেরকেও তাদের নিদর্শন দ্বারা চেনা সম্ভব। প্রাণীদের ন্যায়  উদ্ভিদরাজির বিভিন্ন নিদর্শন তাদের নামের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে কোন প্রকারের কার্পণ্য করে না। অনুরূপভাবে আসমান-যমীন, সূর্য-চন্দ্র, গ্রহ, নক্ষত্র, তারকা, পাহাড়-পর্বত, সাগর-মহাসাগর, নদ-নদী, হরদ, সমভূমি, মরুভূমি, মালভূমি, বণ-জঙ্গল ইত্যাদিও তাদের নিজ নিজ নিদর্শন দ্বারা আত্মপ্রকাশ করে।