Showing posts with label সিয়াম বা রোজা. Show all posts
Showing posts with label সিয়াম বা রোজা. Show all posts

রমজান মাসে অসহনীয় তাপমাত্রা দেখা দিলে রাসুল [সা.] কী করতেন ?

রমজান মাসে অসহনীয় তাপমাত্রা দেখা দিলে রাসুল [সা.] কী করতেন ?
 

অসহনীয় তাপমাত্রা দেখা দিলে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাথায় পানি ঢালতেন। আবু বকর বিন আব্দুর রহমান হতে বর্ণিত, রাসুলের কয়েকজন সাহাবির উদ্ধৃতি উল্লেখ করে তিনি বলেন : আরজে (স্থান বিশেষ) অত্যধিক পিপাসা বা তাপমাত্রার ফলে রাসুলকে দেখেছি যে, তিনি মাথায় পানি ঢালছেন।

অসহনীয় তাপমাত্রা দেখা দিলে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাথায় পানি ঢালতেন। আবু বকর বিন আব্দুর রহমান হতে বর্ণিত, রাসুলের কয়েকজন সাহাবির উদ্ধৃতি উল্লেখ করে তিনি বলেন : আরজে (স্থান বিশেষ) অত্যধিক পিপাসা বা তাপমাত্রার ফলে রাসুলকে দেখেছি যে, তিনি মাথায় পানি ঢালছেন। [আবু দাউদ : ২৩৬৫। হাদিসটি সহিহ।]

দৈহিক প্রশান্তি ও স্বস্তি এবং উদ্যম লাভের জন্য এমন করা দূষণীয় নয়। এর ফলে রোজাদারের ইবাদত বৃদ্ধি পাবে। কারণ, বান্দা স্বতঃস্ফূর্ত ও সানন্দচিত্তে বিনয়-বিগলিত হয়ে রবের দরবারে উপস্থিত হবে, পালন করবে তার আদেশ-নিষেধ—রোজার প্রধান উদ্দেশ্য এটিই। দৈহিক কষ্টভোগ, নির্যাতন কিংবা কঠোরতা আরোপ রোজা রাখার উদ্দেশ্য হতে পারে না কখনো।

সিয়াম সাধনা তাকওয়ার প্রশিক্ষণ !

সিয়াম সাধনা তাকওয়ার প্রশিক্ষণ !
মুহাম্মদ হামিদুল ইসলাম আজাদ

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ


Translation: O you who believe, fasting is prescribed for you, as it was prescribed those before you, that you become the pious.

অনুবাদ: “হে মুমিনগণ! তোমাদের ওপর সিয়ামের ফরমান অবতীর্ণ হয়েছে যা তোমাদের পূর্ববর্তী জাতির ওপরও নাজিল হয়েছিল, যাতে তোমরা তাকওয়ার গুণাবলি অর্জন করতে পার ।

নামকরণ: বাকারা- গাভী । এ সূরার ৬৭ থেকে ৭১ আয়াত পর্যন্ত আয়াতে বনি ইসরাইল জাতির মধ্যে গাভী পূজার বিষয় আলোচনা এসেছে । আল্লাহ তায়ালা কুরআনুল কারিমের সূরাসমূহের নাম নির্ধারণ করেছেন । কুরআনের মধ্যে সৃষ্টির কোন স্পর্শ নেই । যে সমস্ত শব্দ নামকরণের জন্য গৃহীত বলে তাফসিরকারীরা গ্রহণ করেছেন সেগুলো অতীব গুরুত্বপূর্ণ significant and symbolic) । এমনি এ সূরার নাম বাকারা অর্থাৎ গাভী । এই সূরায় গাভীসংক্রান্ত রচনামূলক একটি বাক্যও নেই । সূরাটিতে রয়েছে তাওহিদ আর শিরকের রূপক হিসেবে গাভীকে নেয়া হয়েছে আর তাকে কতলের নির্দেশ এসেছে ।

রোজা অবস্থায় কাউকে রক্ত দেওয়া যাবে কি না?

প্রশ্ন : একজন রমজান মাসে রোজা অবস্থায় ভাইকে রক্ত দিয়েছেন। এতে কি তাঁর রোজা ভেঙে গেছে বা কোনো ক্ষতি হবে ?

উত্তর : রোজা অবস্থায় রক্ত দিলে রোজা নষ্ট হয় না। কারণ শরীর থেকে রক্ত বের হওয়া রোজা ভঙ্গের কারণ নয়। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) রোজা অবস্থায় শিঙ্গা লাগিয়েছেন। সুতরাং রোজা অবস্থায় প্রয়োজনে রক্ত দেওয়া যাবে। তবে রক্ত দেওয়ার কারণে কারো যদি এত দুর্বল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা হয় যে সে রোজা পূর্ণ করতে পারবে না, তাহলে তার জন্য রক্ত দেওয়া মাকরুহ হবে। তাই এ ধরনের ব্যক্তি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া দিনের বেলা রক্ত দেবে না।

[সহিহ বুখারি ১/২৬০; আলমুহীতুল বুরহানি ৩/৩৫৬; ফাতহুল কাদির ২/২৫৬; আলবাহরুর রায়েক ২/২৭৩; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৩৭৯; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৯৯]

রমজান মাস শুরু হওয়া আগে রাসুল [সা.] কী কী কাজ করতেন?

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন পার্থিব বিষয়ে পরিপূর্ণ যুহুদ অবলম্বনকারী, আল্লাহ ও পরকাল দিবসে যা গচ্ছিত ও সংরক্ষিত সে ব্যাপারে খুবই আকাঙ্ক্ষী। রাসুল, তাই, অসন্ন ইবাদতকাল উপলক্ষ্যে অত্যন্ত আনন্দিত হতেন এবং বিভিন্ন সময়ে রহমত-বরকত ও কল্যাণ বর্ষণ এবং অবতরণের উপলক্ষ্য ও অনুষঙ্গগুলোর কারণে ব্যাকুল হতেন। কোরানে এসেছে—
قُلْ بِفَضْلِ اللَّهِ وَبِرَحْمَتِهِ فَبِذَلِكَ فَلْيَفْرَحُوا هُوَ خَيْرٌ مِمَّا يَجْمَعُونَ


আপনি বলুন, আল্লাহর ফজল ও করুণায় এ হয়েছে। এর মাধ্যমেই তারা যেন আনন্দিত হয়। তারা যা সঞ্চয় করে, সে তুলনায় তা উত্তম। [সূরা ইউনুস : আয়াত—৫৮]
আয়াতটি প্রমাণ করে মানুষের পার্থিব অর্জিত ধন-সম্পদ বা সঞ্চিত ব্যবহার্য নয়; আনন্দের উপকরণ হল আল্লাহ কর্তৃক অবতীর্ণ কোরআন, ইসলামের ফরজ বিধি-বিধান, ও আনুষঙ্গিক সম্পূরক সমূহ—যার অন্যতম সিয়াম। [ইমাম তাবারী : জামেউল বায়ান, খন্ড : ৬, পৃষ্ঠা : ৫৬৮]

রোয়া বিষয়ক একটি ফাতাওয়া সংকলন

রমযান মাসের আগমন উপলক্ষে আমরা কিভাবে প্রস্তুতি নেব

প্রশ্ন : আমরা কিভাবে রমযানের জন্য প্রস্তুতি নিব? এই মহান মাসে কোন কাজটি সর্বোত্তম ?

উত্তর : সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য।

প্রথমত : সম্মানিত ভাই, আপনি প্রশ্নটি করে বেশ ভাল করেছেন। কারণ আপনি রমযান মাসের প্রস্তুতি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছেন যখন সিয়ামের প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে বহু মানুষের ধ্যান ধারণা বিকৃত হয়েছে। তারা এই মাসকে খাদ্য, পানীয়, মিষ্টি-মন্ডা, রাত জাগা ও স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলোর মৌসুম বানিয়ে ফেলেছে। আর এ জন্য তারা রমযান মাসের বেশ আগ থেকেই প্রস্তুতি নিতে শুরু করে এই আশংকায় যে কিছু খাদ্য দ্রব্য কেনা বাদ পড়তে পারে বা দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই তারা খাদ্য দ্রব্য কিনে, হরেক রকম পানীয় প্রস্তুত করে এবং কী অনুষ্ঠান দেখবে আর কী দেখবে না তা জানতে স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলোর গাইড খোঁজ খবর করে প্রস্তুতি নেয়।

সারা বিশ্বে একই দিনে ছিয়াম ও ঈদ

সারা বিশ্বে একই দিনে ছিয়াম ও ঈদ পালন নিয়ে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে একশ্রেণীর মানুষের মধ্যে ব্যাপক তোলপাড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ইতিপূর্বে ১৯৮৬ সালের ১১-১৬ অক্টোবর ওআইসির অঙ্গ সংগঠন ‘ইসলামী ফিকহ একাডেমী’ জর্ডানের রাজধানী আম্মানে এ ব্যাপারে একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেও এখনও পর্যন্ত ওআইসি কার্যকরী কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেনি। কারণ এ বিতর্কিত সিদ্ধান্তটি ছিল কেবলই যুক্তিনির্ভর; শরী‘আত কিংবা বাস্তবতার নিরিখে এর কোন ভিত্তি নেই। তবুও সাধারণ মানুষের মধ্যে যেহেতু এ নিয়ে গুঞ্জরণ সৃষ্টি হয়েছে, তাই শারঈ দৃষ্টিকোণ এবং বাস্তবতার নিরিখে বিষয়টি বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।