Showing posts with label বিশেষ দিন ও রাত. Show all posts
Showing posts with label বিশেষ দিন ও রাত. Show all posts

ইসলামের দৃষ্টিতে বিশ্ব ভালবাসা দিবস

ইসলামের দৃষ্টিতে বিশ্ব ভালবাসা দিবস
(Valentine day)


ভালবাসার পরিচয় :
‘ভালবাসা’ এক পবিত্র জিনিস যা আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এর পক্ষ হতে আমরা পেয়েছি । ভালবাসা’ শব্দটি ইতিবাচক । আল্লাহ তা‘আলা সকল ইতিবাচক কর্ম - সম্পাদনকারীকে ভালবাসেন । আল্লাহ তা‘আলা বলেন ,
وَلَا تُلْقُوا بِأَيْدِيكُمْ إِلَى التَّهْلُكَةِ وَأَحْسِنُوا إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ
‘‘এবং স্বহস্তে নিজেদেরকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়ো না । তোমরা সৎকর্ম কর, নিশ্চয় আল্লাহ্‌মুহসিনদের ভালবাসেন । সূরা আল-বাকারা : ১৯৫

কুরআন ও হাদীসের কষ্টিপথরে শবেবরাত

মুহাম্মদ হামিদুল ইসলাম আজাদ


আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ ।
প্রাণ প্রিয় ভাই, রামাযানুল মোবারকের প্রস্তুতির মাস শাবান আমাদের মাঝে উপস্থিত । এ মাসে আমাদের জন্য রয়েছে কিছু করণীয় । রয়েছে কিছু বর্জনীয় । এ বিষয়টি নিয়েই আমাদের এই লেখার অবতারণা ।
শবেবরাতের পরিচয় : আরবী শা‘বান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতকে সাধারণভাবে ‘শবেবরাত’ বা ‘লায়লাতুল বারাআত’ (ليلة البراءة) বলা হয় । ‘শবেবরাত’ শব্দটি ফারসী । এর অর্থ হিস্সা বা নির্দেশ পাওয়ার রাত্রি । দ্বিতীয় শব্দটি আরবী । যার অর্থ বিচ্ছেদ বা মুক্তির রাত্রি । এদেশে শবেবরাত ‘সৌভাগ্য রজনী’ হিসাবেই পালিত হয় । এজন্য সরকারী ছুটি ঘোষিত হয় । লোকেরা ধারণা করে যে, এ রাতে বান্দাহর গুনাহ মাফ হয় । আয়ু ও রূযী বৃদ্ধি করা হয় । সারা বছরের হায়াত-মউতের ও ভাগ্যের রেজিষ্ট্রার লিখিত হয় । এই রাতে রূহগুলো সব আত্মীয়-স্বজনের সাথে মুলাক্বাতের জন্য পৃথিবীতে নেমে আসে । বিশেষ করে বিধবারা মনে করেন যে, তাদের স্বামীদের রূহ ঐ রাতে ঘরে ফেরে ।
এজন্য ঘরের মধ্যে আলো জ্বেলে বিধবাগণ সারা রাত মৃত স্বামীর রূহের আগমনের আশায় বুক বেঁধে বসে থাকেন । বাসগৃহ ধুপ-ধুনা, আগরবাতি, মোমবাতি ইত্যাদি দিয়ে আলোকিত করা হয় । অগণিত বাল্ব জ্বালিয়ে আলোকসজ্জা করা হয় । এজন্য সরকারী পুরস্কারও ঘোষণা করা হয় । আত্মীয়রা সব দলে দলে গোরস্থানে ছুটে যায় । হালুয়া-রুটির হিড়িক পড়ে যায় । ছেলেরা পটকা ফাটিয়ে আতশবাজি করে হৈ-হুল্লোড়ে রাত কাটিয়ে দেয় । যারা কখনো ছালাতে অভ্যস্ত নয়, তারাও ঐ রাতে মসজিদে গিয়ে ‘ছালাতে আল্ফিয়াহ’ الصلاة الألفية বা ১০০ রাক‘আত ছালাত আদায়ে রত হয়, যেখানে প্রতি রাক‘আতে ১০ বার করে সূরায়ে ইখলাছ পড়া হয় । সংক্ষেপে এই হ’ল এদেশে শবেবরাতের নামে প্রচলিত ইসলামী পর্বের বাস্তব চিত্র ।

ইসলামের দৃষ্টিতে পহেলা বৈশাখ বা নববর্ষ

রহমান রহীম আল্লাহ্‌ তায়ালার নামে-

 ভূমিকা : নববর্ষ বা New Year’s day – এই শব্দগুলো নতুন বছরের আগমন এবং এ উপলক্ষে আয়োজিত উৎসব-অনুষ্ঠানাদিকে ইঙ্গিত করে। এতদুপলক্ষে নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা, হাসিঠাট্টা ও আনন্দ উপভোগ, সাজগোজ করে নারীদের অবাধ বিচরণ ও সৌন্দর্যের প্রদর্শনী, রাতে অভিজাত এলাকার ক্লাব ইত্যাদিতে মদ্যপান তথা নাচানাচি, পটকা ফুটানো – এই সবকিছু কতটা ইসলাম সম্মত ? ৮৭ ভাগ মুসলিম যে আল্লাহতে বিশ্বাসী, সেই আল্লাহ কি মুসলিমদের এইসকল আচরণে আনন্দ-আপ্লুত হন, না ক্রোধান্বিত হন ? নববর্ষকে সামনে রেখে এই নিবন্ধে এই বিষয়টি আলোচিত হয়েছে ।

ইসলামে শ্রমিকের অধিকার : প্রেক্ষিত মে দিবস

বছর ঘুরে আবার এসেছে মে মাস। শ্রমিকের অধিকার আদায় আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত এ মাসের ১ তারিখ সারা বিশ্বে পালিত হয় ‘বিশ্ব শ্রমিক দিবস’ (International Workers Day) হিসাবে। এ দিবসটি আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেয় শ্রমিকের মর্যাদা ও অধিকার এবং মালিক-শ্রমিক সম্পর্ক, দায়িত্ব ও কর্তব্যের কথা।

মুসলমানদের জন্য পহেলা এপ্রিল বা এপ্রিল ফুল পালন করা হারাম

মুসলমানদের জন্য পহেলা এপ্রিল বা এপ্রিল ফুল পালন করা হারাম

প্রতি বৎসর ১লা এপ্রিলের নামে বাড়িতে-বাড়িতে, পাড়া-মহল্লায়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, অফিস-আদালতে একে অপরকে ধোঁকা দিয়ে ঠকিয়ে প্রতারণা করে পহেলা এপ্রিল পালন করে থাকে। এ প্রতারণার আনন্দকে তারা পহেলা এপ্রিলের আনন্দ মনে করে থাকে এবং মুখেও তা উচ্চারণ করে থাকে। এমনিতে কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ-এ কম হাসার কথা বলা হয়েছে।

আপনার বিবেককে জিজ্ঞেস করুন, এপ্রিল ফুল পালন করবেন কিনা ?

আপনার বিবেককে জিজ্ঞেস করুন, এপ্রিল ফুল পালন করবেন কিনা ?


আলোচ্যবিষয়গুলো নিতান্তই আমাদের ধর্মীয় আবেগের দুর্বলতা এবং ইতিহাসের অজ্ঞতা ছাড়া আর কিছুই নয়। আমাদের ধর্মীয় সরলতার সুযোগ নিয়ে ইহুদি বা অন্য কেউ আমাদের সমাজে ঢুকিয়ে দিয়েছে (আমরা কিন্তু এখানে কোনো নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ইহুদিদের দায়ী করিনি। হতে পারে অন্য কোনোভাবে এটি আমাদের সমাজে প্রচলিত হয়েছে। তবে ইহুদিদের বিষয়টি অবশ্যপ্রনিধানযোগ্য)। এখানে শুধু দুটো প্রচলিত বিষয়ের সুলুক সন্ধান তুলে ধরা হয়েছে অথচ এমন আরো শত শত প্রচলিত ভুল ইতিহাস আমাদের সমাজে চলতি আছে।

এপ্রিল ফুল : ইতিহাসের নতুন ইতিহাস

এপ্রিল ফুল : ইতিহাসের নতুন ইতিহাস


এখানে আরেকটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, খ্রিস্টানদের এই নির্যাতনের আওতায় কেবল মুসলমানরাই ছিলো না বরং গ্রানাডার অধিবাসী প্রায় তিন লাখ ইহুদিকেও এই একই ভাগ্যবরণ করতে হয়। উপরন্তু ইহুদিদের ওপর খ্রিস্টানরা মুসলমানদের চেয়ে বেশি নির্যাতন চালায় এবং ১৪৯২ সালের ৩১ মার্চ [এই তারিখটি স্মরণ রাখা প্রয়োজন] রানি ইসাবেলা ও রাজা ফার্ডিন্যান্ড ইহুদিদের দমনে ‘আল-হামরা ডিক্রি’ নামে একটি অধ্যাদেশ জারি করেন।

এপ্রিল ফুল : সন্দেহের অব্যর্থ তীর ইহুদিদের দিকে...

এপ্রিল ফুল : সন্দেহের অব্যর্থ তীর ইহুদিদের দিকে...

‘ইসরাইলি রেওয়ায়েত’ বলে আরবি শিক্ষিতদের মাঝে একটি নির্দিষ্ট পরিভাষা প্রচলিত আছে। কোরান এবং হাদিসের ব্যাখ্যায় যে সব তথ্য মিথ্যা কিংবা প্রায়মিথ্যা বলে প্রতীয়মান হয় সেগুলোকে সাধারণত ইসরাইলি রেওয়ায়েত-(ইসরাইলি বর্ণনা) বলা হয়। কোরানের তাফসির বা হাদিসের ব্যাখ্যায় এসব বর্ণনার ওপর আস্থা রাখা হয় না। লোকসমাজে ব্যাপক প্রচলিত হওয়ার কারণে এগুলোকে সত্য হিসেবে যেমন গ্রহণ করা হয় না তেমনি মিথ্যা বলেও উড়িয়ে দেয়া যায় না। আর এই ইসরাইলি রেওয়ায়েতগুলো উৎপাদিত হয় সাধারণত ইহুদিসমাজ থেকে। ইসরাইল মানেই ইহুদি। সেমতে আমরা বলতে পারি, এপ্রিল ফুলের বিষয়টিও একটি ‘ইসরাইলি রেওয়ায়েত’ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। এ মতের ব্যাপারে নির্দিষ্ট কারণও রয়েছে। আসুন, কারণগুলো নিয়ে আমরা একটু আলোচনা করি।

‘এপ্রিল ফুল’ –এর ঐতিহাসিক কোনো ভিত্তি নেই

‘এপ্রিল ফুল’ –এর ঐতিহাসিক কোনো ভিত্তি নেই

আমাদের উপমহাদেশের মুসলিমরাও খুব ঘটা করে এপ্রিল ফুলের বেদনাবহ স্মরণদিবস পালন করেন। ইসলামি ঘরানার ম্যাগাজিন, পত্র-পত্রিকা, প্রতিষ্ঠান তো বটেই আমাদের অনেক জাতীয় দৈনিকও দিবসটি নিয়ে বিভিন্ন ধরনের হামদর্দি প্রকাশ করে কলাম বা আবেগী লেখা ছাপে। ইদানীং ফেসবুক, ব্লগ, টুইটারসহ অনলাইনের হেন কোনো মাধ্যম নেই যেখানে এপ্রিল ফুল নিয়ে অতি আবেগী মুসলমানরা হামদর্দিতে আহা-উহু করেন না। কী কারণে ?
কারণ, এপ্রিলের ১ লা তারিখে মুসলমানদের করতল থেকে সম্মিলিত আক্রমণের মাধ্যমে স্পেনের তৎকালীন রাজধানী গ্রানাডা দখল করে নেন পার্শ্ববর্তী অ্যারাগোন রাজ্যের রাজা ফার্ডিন্যান্ড এবং ক্যাস্টিলের রানি ইসাবেলা।কিন্তু এটা ইতিহাসের কত খ্রিস্টাব্দে সংঘটিত হয়েছিলো? সেটা কি এপ্রিল মাসে হয়েছিলো নাকি অন্য কোনো মাসে ? এখানেই আসল রহস্য। এ সম্পর্কে জানতে হলে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত লেখাগুলো পড়তে হবে...
হাফেজ মাওলানা সালাহউদ্দীন জাহাঙ্গীর
আলেম, সাংবাদিক, সাবেক সহযোগী সম্পাদক, সপ্তাহিক লিখনী

এপ্রিল ফুল আসলে কী ?

এপ্রিল ফুল আসলে কী ?

প্রথমেই কিছু দরকারি কথা জানা থাকা দরকার। অনেকেই ভ্রু কুঁচকে প্রশ্ন করতে পারেন, আমি কেনো শুধু শুধু এমন প্রচলিত বিষয়টি নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করছি? তাদের জানা প্রয়োজন, মিথ্যা দিয়ে কখনো সত্যকে বেগবান করা যায় না। ইতিহাসের যেটা সত্য আমরা সেটাকেই আমাদের ধর্মীয় মানসে লালন করবো। একটি অযাচিত আবেগী মিথ্যা দিয়ে কেনো আমরা কলঙ্কিত করবো আমাদের রক্ষিত ইতিহাসকে? স্পেনে মুসলমানদের পরাজয় এবং সেখান থেকে বিতাড়নের ইতিহাস অবশ্যই আমাদের জন্য বেদনার উপলক্ষ।

এপ্রিল ফুল : ইসলাম কী বলে ?

এপ্রিল ফুল : ইসলাম কী বলে ?

কোন রকম চিন্তা-ভাবনা ছাড়াই পশ্চিমাদের অন্ধ অনুকরণের উদগ্র বাসনা মুসলিম সমাজে যে সমস্ত প্রথার প্রচলন ঘটিয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হলো ‘এপ্রিল ফুল’। এই প্রথা পালনার্থে এপ্রিলের প্রথম তারিখে মিথ্যা বলে কারো সাথে প্রতারণা করা এবং ধোকা দিয়ে তাকে বোকা বানানো শুধু বৈধই মনে করা হয় না,বরং রীতিমত একে একটি পারদর্শিতা এবং কুশলতা মনে করা হয়। অন্যকে যে যত বেশী ধোকা দিয়ে বোকা বানাতে পারবে তাকে তত বেশী প্রশংসার যোগ্য ও পহেলা এপ্রিলের ইতিহাস থেকে যথাযথ শিক্ষা গ্রহণকারী ও তা বাস্তবায়নকারী গণ্য করা হয়। মানুষকে ধোকা দেওয়ার এই রুচি-যাকে কুরুচিই বলা উচিৎ-বিনা কারণে কত মানুষের যে জানমালের ক্ষতি করেছে তার ইয়ত্তা নেই।

এপ্রিল ফুল এবং স্পেনের ইতিহাস

এপ্রিল ফুল এবং স্পেনের ইতিহাস

৩০ এপ্রিল ৭১১ খ্রিস্টাব্দ : মুসলিম সেনাপতি তারিক বিন জিয়াদ জাবালুত্তারিক (জিব্রাল্টার) বন্দরে অবতরণ করেন এবং ক্রমান্বয়ে স্পেন দখল করেন। এরপর ৭১১ খ্রিস্টাব্দ থেকে শুরু করে ৭৮০ বছর পর্যন্ত মুসলিমরা স্পেন শাসন করে। কিন্তু শেষদিকে অর্থাৎ ১৪০০ খ্রিস্টাব্দের পর থেকে মুসলিম শাসকদের নৈতিক অধঃপতন শুরু হলে স্পেনের ভাগ্যাকাশেও দেখা দেয় দুর্যোগের ঘনঘটা। আশপাশের খ্রিস্টান রাজারা ক্রমাগত আক্রমণ করতে থাকে স্পেনের মুসলিম রাজ্যসমূহে। ফলশ্রুতিতে ১৪৯২ খ্রিস্টাব্দের ২ রা জানুয়ারি গ্রানাডার তৎকালীন মুসলিম শাসক আবু আব্দুল্লাহ (পাশ্চাত্যে তাকে ববডিল নামে ডাকা হয়) রাজা ফার্ডিন্যান্ড এবং রানি ইসাবেলার সঙ্গে এক চুক্তির মাধ্যমে পরাজয় স্বীকার করে নেন।

আসল ঘটনা এই এপ্রিল ফুলকে নিয়েই...

আসল ঘটনা এই এপ্রিল ফুলকে নিয়েই...

আসল ঘটনা এই এপ্রিল ফুলকে নিয়েই। ইতিহাসে আমরা দেখতে পাচ্ছি, মুসলমানদের পরাজয়ের দিনটি ছিলো ১৪৯২ সালের ২ রা জানুয়ারি। এপ্রিলের ১ তারিখ বা এপ্রিল মাসেও নয়। তদুপরি এটা কতো সালের এপ্রিল মাসের ঘটনা সে বিষয়েও কেউ সঠিক কোনো তথ্য দিতে পারেন না। এটা যদি ১৪৯২ খ্রিস্টাব্দের ১ লা এপ্রিল হয়ে থাকে তবে সম্পূর্ণই মিথ্যা একটি রটনা ছাড়া কিছুই নয়। কেননা ইতিহাসের সমস্ত দলিল-প্রমাণে খুব স্পষ্ট করেই লেখা রয়েছে যে, স্পেনে মুসলিমদের পরাজয়ের দিনটি ছিলো ২ রা জানুয়ারি ১৪৯২ এবং এর আগে ‘ট্রিটি অব গ্রানাডা’ নামে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।